অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ, বাঁচতে চান দেবীদ্বারের পোষ্ট মাষ্টার ওয়াহিদুর রহমান

 

বাম হাতে প্যারালাইসিস ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে দূর্বিসহ জীবন পার করছেন কুমিল্লার দেবীদ্বারের এক বৃদ্ধা পোষ্ট মাষ্টার ওয়াহিদুর রহমান। অর্থের অভাবে চিকিৎসাও চলছে না। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে ইতোমধ্যে নিজের সব সহায় সম্বল সব শেষ হয়ে গেছে। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ও প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করলে হয়তো বেঁচে যাবে পোষ্ট মাষ্টার ওয়াহিদের জীবন।

দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা ওয়াহিদুর রহমান (৬৬)। পিতা শব্দর আলী মুন্সী ও স্ত্রী অহিদা বেগম অনেক আগেই ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে হার মেনেছেন। স্ত্রী ও বাবার চিকিৎসায়ও সর্বস্ব হারিয়েছে তার পরিবার।

এরপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো দুঃসংবাদ। বাম হাতসহ দুটি কিডনি কার্যক্ষমতা হারিয়েছে ৬৬ বছর বয়সী এই জীবন যুদ্ধে হার না মানা এ বৃদ্ধের। দীর্ঘ ১১ মাস ধরে দেশের চিকিৎসায় ব্যয় হয়ে গেছে প্রায় ৭ লাখ টাকা। এই টাকা যোগাড় করতে গিয়ে চড়া সুদে ঋণ নিয়েছেন প্রায় দুই লাখ টাকা।

গত ২০২০ সালে স্ত্রী অহিদা বেগমের মৃত্যুর পর সর্বস্ব হারানো ওয়াহিদুর রহমান যখন পরিবারের হাল ধরেছিলেন এমনই সময়ে প্যারালাইসিস ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তার উপার্জিত আয় ছিলো পরিবার চালানোর প্রধান উৎস। স্ত্রী হারানো ওয়াহিদুর রহমান বর্তমানে তার তিন ছেলে ও তিন মেয়ে থাকা সত্ত্বেও আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। গত ৪ মাস ধরে এই রোগীর কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না টাকার অভাবে। পরিবার চলতেও কষ্ট হচ্ছে।

চিকিৎসক জানিয়েছে, ওয়াহিদুর রহমানকে প্যারালাইসিস রোগের চিকিৎসা ছাড়াই সপ্তাহে দুইবার কিডনি ডায়ালসিস করতে হবে অনির্দিষ্ট কাল। প্রতিবার ডায়ালসিস করতে লাগে ২ হাজার ৫০০ টাকা।

চিকিৎসকের মতে আগে তার প্যারালাইসিসের চিকিৎসাসহ দুইটা কিডনির মধ্যে একটা বাধ্যতামূলক প্রতিস্থাপন করা জরুরি। না হয় তার জীবন হুমকির মুখে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার দরকার।

মোহনপুর ইউপি কার্যালয়ের পোষ্ট অফিস কক্ষে ওয়াহিদুর রহমান বলেন, বর্তমানে চিকিৎসার খরচ দূরে থাক তাদের পরিবারের ভরনপোষনের খরচও জুটছে না। প্রতিবেশীদের সহযোগীতায় কোনোরকম দিন যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, ১৯৭০ সালে ওয়াহিদুর রহমান উপজেলার মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসি পাশ করার পর ঢাকার ধানমন্ডির তৎকালীন ৩২ নম্বর সড়কে অবস্থিত  আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সহচর ও সিএইচপি অফিসার সাবেক সংসদ সদস্য আহম্মেদ ফজুলুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ফিলিং স্টেশনে ৬৫ টাকা বেতনে চাকুরী নেন তিনি। এ চাকুরী করার সময় বিভিন্ন সময়ে ওয়াহিদুর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির বিভিন্ন কাজও করতে হয়েছে তাকে আর সে সুবাধে বঙ্গবন্ধুকে তিনি খুবই কাছ থেকে দেখেছেন। ১৯৭০ সালের সাধারন নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে প্রচারনাকালে তাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আটকও করেছিলেন সে সময়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু নিহত হবার পর এবং তার কর্মস্থলটি বঙ্গবন্ধুর নিহতস্থলে হওয়ায় সে ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাকুরী হারান ওয়াহিদুর রহমান। পরে নিজ এলাকায় ফিরে এসে হাবিবুর রহমান টেক্সটাইল মিলে ১০ বছর চাকুরী করার পর ১৯৯১ সালে ৩৮৭ টাকা বেতনে উপজেলার মোহনপুর পোষ্ট অফিসে পোষ্ট ম্যান হিসেবে চাকুরী নিয়ে ২০১৩ সাল হতে পোষ্ট মাষ্টার পদে উন্নীত হয়ে এখনও অসুস্থ অবস্থায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে তিনি তার ওয়ার্ড আওয়ামীলীগেরও সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

ওয়াহিদুর রহমান ১৯৫৫ সালের ২৩ মার্চ কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের তালতলা মুন্সী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

ওয়াহিদুর রহমান কান্না জড়িত কন্ঠে আরো বলেন,

তার ছেলেরাও এখন তার কোন খোঁজখবর নেন না। দীর্ঘ অনেক বছর পরিবারের হাল ধরেছেন তিনি। তার জমানো টাকা, সম্পদ যা ছিলো তার ও তার স্ত্রীর চিকিৎসা ও ছেলে মেয়েদের ভরন পোষনের জন্য সব শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে নিজের অসুস্থতার কারণে আয়ও বন্ধ। বর্তমানে তিনি জীবনযুদ্ধে লড়াই করছেন। তার চিকিৎসায় এগিয়ে আসতে তিনি মানবিক সহযোগিতা প্রত্যাশাসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

মুরাদনগর উপজেলা আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমিটির সভাপতি ও মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক শরিফুল আলম চৌধুরী সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে কাছে পোষ্ট মাষ্টার ওয়াহিদুর রহমানের চিকিৎসার্থে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। অসুস্থ পোষ্ট মাষ্টার ওয়াহিদুর রহমানের বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে সরাসরি ওয়াহিদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ ০১৮১৩০৩১০৪২।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন