ইতিহাস ফিরে আসে

 

নির্জন আরবের মরু অঞ্চল থেকে যখন উম্মতে মোহাম্মদী জাতি জেগে উঠল, অতি অল্প সময়ের মধ্যে তারা আবির্ভূত হলো অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসাবে। তারা ছিল একটি আর্দশভিত্তিক নতুন সভ্যতা প্রতিষ্ঠার চেতনায় উজ্জীবিত।

উম্মতে মোহাম্মদী মাত্র এক দশকের মধ্যে একদিকে রোমানদের শাসনাধীন সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও ট্রান্সজর্ডানে, অপরদিকে মিশর ও উত্তর আফ্রিকাতেও আল্লাহর হুকুম প্রতিষ্ঠা করে। 

সে সময়ের রোমান সাম্রাজের কাছে এটা ছিল একান্তই অপ্রত্যাশিত। কারণ তারা আরেক আমেজে তখন আকণ্ঠ ডুবেছিল। তারা আলোচনা করছিল যিশুখ্রিষ্টকে নিয়ে। তার দেহ কী দিয়ে গড়া, তিনি কি সাধারণ রক্তমাংসের মানুষ? সাধারণ খাদ্য-খাবার দিয়ে এবং পানীয় জলেই কি তাঁর দৈহিক বৃদ্ধি ঘটেছিল?

বিপুল শক্তির অধিকারী বিশাল এই সাম্রাজ্যটি তখন চলে গেছে অধঃপতনের চরম সীমায়। হাজার হাজার রকমের গোড়ামি এবং কুসংস্কারে খ্রিষ্টানরা ছিল আচ্ছন্ন। অর্থহীন কতগুলো বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক করে তারা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সামরিক বিভাগ খুবই অবহেলিত এবং উত্তরাঞ্চলের বর্বর গোত্রগুলো তাদের পুরোনো পেশা ডাকাতিতে মেতে উঠেছিল। ফলে তাদের পক্ষে উম্মতে মোহাম্মদীকে প্রতিহত করা সম্ভব হয় নি।  

মাত্র ছয়শ বছরের ব্যবধানে একই কার্যকারণের শিকার হলো সেই মুসলিম জাতির আব্বাসী খেলাফতের কেন্দ্র বাগদাদ। মঙ্গোলিয়া থেকে এসে হালাকু খান যখন বাগদাদ আক্রমণ করে ভয়াবহ গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালালো, সে সময় মুসলিম জাতির বিরাট বিরাট আলেমরাও বাহাসে লিপ্ত ছিলেন। বিষয় হচ্ছে- মেসওয়াক করার সময় উপরের মাড়ির দাঁত আগে মেসওয়াক করতে হবে, নাকি নিচের মাড়ির দাঁত? 

এসব গুরুত্বহীন মাসলা নিয়ে যখন তুমুল তর্ক চলছিল, তখন হালাকু খান এসে তাদের শহরগুলো পুড়িয়ে, লুটপাট করে, তাদের সুলতানদের মেরে নজিরবিহীন ধ্বংসসাধন করল। ঐতিহাসিকরা একে কেয়ামত ছাড়া আর কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করতে পারেননি। 

আর এখন আমাদের এই মুসলিম জাতির আলেমরাও ঠিক একই রকম বিষয় নিয়ে তর্ক-বাহাস, মুনাজারায় লিপ্ত, যেমন - নবীজি নূরের তৈরি নাকি মাটির তৈরি, তাঁর ছায়া পড়ত নাকি পড়ত না, মিলাদে দাঁড়াতে হবে নাকি হবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। 

সুতরাং এই জাতি শত শত বছর ধরে অন্য জাতির গোলামি করবে না তো কী করবে?

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন