টাকা হলেই কি সব হয়!

২২/২৩ বছর 'প্রথম আলো' পত্রিকাটি বাংলাদেশে প্রিন্ট মিডিয়ায় মোটামুটি রাজত্ব করে যাচ্ছে। 

গত দুই দশকের বেশি সময় হয়ে গেলো আর একটা পত্রিকা বাংলাদেশে এলো না, যেই পত্রিকাটি প্রথম আলোর ধারে কাছে যেতে পারে। 

সরকার অনেক চেষ্টা করেছে। আমিও আশা করেছিলাম, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়তো দু একটি পত্রিকা দাঁড়াতে পারবে। 

সমস্যা অনেক। ধরেন আপনার টাকা আছে। আপনি ৩০০ কোটি টাকা দর্জি মনিরকে দিয়ে বললেন - প্রথম আলোর চেয়ে একটা ভালো পত্রিকা বানাও। এটা কি সম্ভব?

সরকারের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পালিয়ে থাকা বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকরা একে একে দেশে ফিরে এলো। তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো ফ্রিজে চলে গেলো। কেন চলে গেলো জানি না। 

বসুন্ধরা গ্রুপের টাকা পয়সার কোন অভাব নাই। প্রথম আলো থেকে অনেক সাংবাদিককে অনেক বেতন দিয়ে আনা হলো। বিপুল প্রচারের ব্যবস্থা হলো। তাদের আবার কাগজের কারখানা আছে। পত্রিকা একসাথে কয়েকটা বের করলো। 

একটা ধাক্কা খেলাম প্রথমে - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবী, কথা বলেন অনেক সুন্দর করে, তিনি ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদক হয়ে বসুন্ধরা লোগো পড়ে টিভিতে আসা শুরু করলেন। ভাবলাম স্যার হয়তো ডেইলি স্টারকে পেছনে ফেলে দিবেন এবার। 

কীসের কী?

আজও প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার দাপটের সাথে প্রিন্ট মিডিয়ার শীর্ষে অবস্থান করছে। তাদের সমান তো দূরের কথা তাদের কাছাকাছি একটি পত্রিকার নাম এ দেশে বলা যায় না।

১৭ কোটি মানুষের দেশ। পত্রিকা আসলে একটা। কিশোর আলোসহ যে তাদের নানা আইডিয়া, সেগুলোর সাথে পাল্লা দেয়ার মতো কাউকে তো দেখছি না। 

টাকা দিয়ে সব খাওয়ানো যায় না। লোক লাগে। আগে লোক তৈরি করতে হয়। 

টাকা দিয়ে দর্জি মনির হাজার হাজার, লাখ লাখ তৈরি হয়। কিন্তু কোয়ালিটি মানুষ তৈরি এক বিশাল সাধনার বিষয়।

যা লিখলাম তা ভালো নয়। মনোপলি বা একচেটিয়া জিনিস ভালো নয়। প্রথম আলোর পথ হারাবে না বাংলাদেশে এটার সমালোচনা করে লিখেছিলাম ২০১৩ সালে - এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, এগিয়ে যাবে। 

প্রথম আলোর সেই শ্লোগানটা হারিয়ে গেছে, সেটা কমিউনিকেশন নিয়ে যেহেতু কাজ করি -  আমি মনে করি সেটা ভালো হয়েছে। আর সেই থেকে প্রথম আলো আমি পড়িনা -১/২ বার পড়তে পারি। 

কথা হলো দেশে প্রথম আলোই একাই টপ চার্টে দশকের পর দশক কেন থাকবে? আর কোন পত্রিকা কেন হবে না? 

প্রথম আলোর দুজন সাংবাদিকের প্রোফাইল আমার দেখার সুযোগ হয়েছিলো। আমার কাছে পরিষ্কার - কেন প্রথম আলোর বেশিরভাগ সাংবাদিক দক্ষ সাংবাদিক, তাদের গুণমান অনেকের চেয়ে বেশি। 

তাদের বছরের পর বছর দেশে বিদেশে যে পরিমান 'কোয়ালিটি' প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলা হয়, অন্য কোন পত্রিকার সাংবাদিকরা হয়তো এসব পাওয়ার সুযোগ পায় না। ভুল হতে পারে আমার। 

অথবা হতে পারে বিষয়টা নটরডেম বা বুয়েটের মতো। ভালোগুলোই সেখানে ভর্তি হয়। সেখানকার শিক্ষকরাও ভালো। তো দুই ভালো মিলে তাদের ভালো করানো আরও সহজ হয়। 

মানে ভালোরাই প্রথম আলোতে ঢুকে পড়ে। সেখানকার গুরু সাংবাদিকদের মানও ভালো। তারপরে আবার তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিয়ে আরও ভালো করে  তোলা হয়। তারপর? 

তারপরে তাদের সাথে পাল্লা দেয়া একদমই কঠিন হয়ে পড়ে। 

তো আগে লোক তৈরি করতে হবে,

তারপরে খেলার মাঠে খেলতে হবে। 

না হলে কী হবে? ফুটবলের মতো হবে। খালি কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালতে থাকবেন, আর র‍্যাংকে পেছাতেই থাকবেন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন